জাতীয়

বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে: আইসিজি

প্রকাশিত: 24 Apr, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

বিএনপি ব্যর্থ হলে দেশে অস্থিরতা বাড়তে পারে: আইসিজি

গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক আকাঙ্ক্ষা পূরণে বিএনপি সরকার ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ আবার রাজনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে পারে। নতুন সরকারের উচিত অর্থনীতি, সুশাসন ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত সংস্কারে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা। প্রস্তাবিত সংস্কারগুলো নিয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির সংঘাত এড়াতে হবে। এছাড়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

এমন তথ্য জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ (আইসিজি)। গতকাল বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস-ভিত্তিক সংগঠনটির ওয়েবসাইটে বাংলাদেশের নতুন সরকারের যাত্রাবিষয়ক প্রতিবেদনটি প্রকাশ হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনার দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনের অধ্যায় শেষ করার জন্য নির্বাচন ও ক্ষমতা হস্তান্তর একটি বড় পদক্ষেপ। নতুন সরকারের প্রতি ভোটারদের স্পষ্ট সমর্থন রয়েছে, তবে তাদের দীর্ঘস্থায়ী জনপ্রিয়তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবে কিনা, তা এখনও অনিশ্চিত।

বিএনপিকে অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করা, নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি এবং রাজনৈতিক সংস্কার এগিয়ে নেওয়ার মতো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সরকারের উচিত পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়া দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহার করা এবং যারা জননিরাপত্তার জন্য হুমকি নয়, তাদের জামিন দেওয়া।

আরও পড়ুন:   ভারত সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চায় বিএনপি সরকার

 বিচারিক প্রক্রিয়ার বৈধ দাবিগুলোর প্রতি যথাযথ মনোযোগ দেওয়া এবং বিচার ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক সুবিধার জন্য ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা উচিত।

আইসিজির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশকে জ্বালানি তেল ও গ্যাস আমদানিতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা তাদের চ্যালেঞ্জ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগামী মাসগুলোতে রাজনৈতিক সংস্কার একটি উত্তপ্ত বিষয় হয়ে উঠতে পারে। সংবিধান সংশোধনী বিষয়ে বিএনপি কী ধরনের পরিবর্তন গ্রহণ করবে, তা স্পষ্ট নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার তরুণদের জন্য প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হলে দেশে আবার অস্থিরতা বাড়তে পারে। জুলাই সনদের ৯টি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়ে বিএনপি দ্বিমত পোষণ করেছিল। এসব সংস্কার উপেক্ষা করা হলে বিরোধী দলের আন্দোলনের বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বিএনপির মনে রাখা উচিত, গণভোটে জুলাই সনদের প্রতি সমর্থন মূলত প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের জন্য ব্যাপক জনদাবির প্রতিফলন।

আরও পড়ুন:  নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে মরণোত্তর সম্মাননায় হুমায়ূন ফরীদি

এছাড়া প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ আওয়ামী লীগ বিএনপির প্রধান প্রতিপক্ষ।

টুডে/জা

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: