পথচারীদের বাঁচাতে গিয়ে অকালে ঝরে গেল প্রাণ: পিরোজপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে রনি
প্রকাশিত: 08 Oct, 2025
নিজের জীবন বিপন্ন করে অন্যদের রক্ষা করার এক নজিরবিহীন সাহসিকতা দেখিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হলো এক যুবকের। পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ থানার দক্ষিণ-পূর্ব সোহাগ দল ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গত রাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন মোঃ রনি ইসলাম। এশার নামাজের পর পথচারীদের বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে বাঁচাতে গিয়ে তিনি এই দুর্ঘটনা শিকার হন।
জানা গেছে, স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর বাইতুল মাল সম্পাদক মোহাম্মদ রাজু সাহেবের ছোট ভাই ছিলেন রনি ইসলাম।
যেভাবে ঘটল মর্মান্তিক ঘটনা
স্থানীয় সূত্রে খবর, এশার নামাজ শেষ করে রনি ইসলাম যখন বাড়ির দিকে ফিরছিলেন, তখন তিনি দেখতে পান একটি বৈদ্যুতিক তারের ওপর বাঁশ পড়ে আছে। এই বিপজ্জনক অবস্থায় যেকোনো পথচারী তারের সংস্পর্শে এলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি পথচারীদের বিপদ থেকে রক্ষা করতে এগিয়ে যান।
কিন্তু অসাবধানতাবশত নিজেই সেই তারের সংস্পর্শে চলে আসেন এবং বৈদ্যুতিক শকে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রনি ইসলামের এমন আত্মত্যাগ এলাকার মানুষকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে।
বিদ্যুতের তার মাটির নিচে নেওয়ার দাবি: নিরাপদ হোক পথ
রনি ইসলামের এই অকালমৃত্যু স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মাথার ওপরে অরক্ষিতভাবে ঝুলে থাকা পুরনো বৈদ্যুতিক তারের কারণেই বারবার এমন দুর্ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার মানুষ।
এই মর্মান্তিক ঘটনার পর স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন, বৈদ্যুতিক শকে যাতে আর কোনো মূল্যবান প্রাণ অকালে ঝরে না যায়, তার জন্য কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। তাদের প্রধান দাবি— এলাকার সব বৈদ্যুতিক তার মাটির নিচে কবরস্থ করা হোক।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে, যার যার সাধ্যমতো যেন এই দাবিকে আইনিভাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য চেষ্টা চালানো হয়। তাদের মূল লক্ষ্য, একটি নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যেখানে আর কোনো জীবন বিপন্ন হবে না।