রাজশাহীর রেললাইনে ভয়ংকর দুর্নীতি: পাথরের বদলে ইটের খোয়া!
প্রকাশিত: 07 Oct, 2025
রাজশাহীতে রেললাইনের নিরাপত্তা নিয়ে উঠেছে ভয়ংকর প্রশ্ন। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অধীনে রাজশাহী-আব্দুলপুর রেলপথে পাথরের সঙ্গে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা হাজার হাজার যাত্রীর জীবনকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।
প্রায় ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই রেললাইনে সম্প্রতি প্রায় ৪০ হাজার ঘনফুট পাথর ফেলা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এই পাথরের সঙ্গে মেশানো হয়েছে মাটি, ধুলো এবং বিপজ্জনক ইটের খোয়া। বৃষ্টির পর রেললাইনের দিকে তাকালে লাল ইটের টুকরোগুলো পরিষ্কার চোখে পড়ছে।
টেন্ডার ছাড়াই নিম্নমানের কাজ, কর্তৃপক্ষের নীরবতা
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই কাজটি কোনো ধরনের টেন্ডার বা ঠিকাদার নিয়োগ ছাড়াই করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রেলওয়ের সদর দপ্তর বিষয়টি সম্পর্কে কিছুই জানে না বলে দাবি করেছে। অন্যদিকে, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, রেললাইনে ইটের খোয়া ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজশাহীর নতুন বুধপাড়া থেকে হাজরাপুকুর পর্যন্ত সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা গেছে। স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর আগে রেললাইন থেকে ইটের খোয়া তুলে ফেলা হয়েছিল। এতদিন পর আবার কেন এই অনিয়ম, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ তারা।
কেন এটি বিপজ্জনক? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা
রেললাইনে যে পাথর ব্যবহার করা হয়, তাকে ‘ব্যালাস্ট’ বলে। এর মূল কাজ হলো স্লিপার ও রেললাইনকে যথাস্থানে ধরে রাখা, ট্রেনের प्रचंड ভার বহন করা এবং বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন করা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাথর অত্যন্ত টেকসই হলেও ইটের খোয়া অল্প দিনেই ক্ষয় হয়ে গুঁড়োতে পরিণত হয়। সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ (সিডিআইআর)-এর রাজশাহী শাখার প্রধান পরামর্শক সুব্রত কুমার পাল বলেন, “এটি একটি ভয়ংকর অনিয়ম এবং পরিষ্কার দুর্নীতি। ইটের খোয়া ব্যবহারের ফলে ট্রেনের ঝাঁকুনি বেড়ে যায় এবং লাইনচ্যুত হওয়ার মতো বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।”
তিনি আরও বলেন, “যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। না হলে এমন ঘটনা বারবার ঘটবে।”
কর্মকর্তারা কী বলছেন?
এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক (পশ্চিম) ফরিদ আহমেদ বলেন, "রেললাইনে ব্যালাস্ট পাথরের সঙ্গে অন্য কিছু মেশানোর কোনো সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।"
তবে রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ট্র্যাক) আহসান জাবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি, যা পুরো বিষয়টিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।