"চন্দন" ভেবে নদীতে ঝাঁপ, তা আসলে কী?
প্রকাশিত: 08 Oct, 2025
উজানের ঢলে ভারত থেকে ভেসে আসা হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি। আর সেই কাঠকে ‘রক্ত চন্দন’ ভেবে কুড়িগ্রামের নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে এক ভয়ংকর প্রতিযোগিতা। লাখপতি হওয়ার স্বপ্নে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ছেন শত শত মানুষ। এই উন্মাদনার মধ্যেই ঘটেছে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা—কাঠ ধরতে গিয়ে নদীতে ডুবে নিখোঁজ হয়েছেন এক ব্যক্তি।
অথচ বন বিভাগ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো চন্দন কাঠই নয়। পানিতে দীর্ঘদিন থাকায় সাধারণ গাছের কাঠই লাল বর্ণ ধারণ করেছে। কিন্তু গুজবের স্রোত থামছে না।
গুজবে কান দিয়ে নদীতে ঝাঁপ, প্রাণ গেল একজনের
রোববার (৫ অক্টোবর) সকালে নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী এলাকায় ভেসে আসা একটি বড় গাছের গুঁড়ি ধরতে গিয়ে নদীতে ঝাঁপ দেন মনছুর আলী (৪০) নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু নদীর তীব্র স্রোতে তিনি তলিয়ে যান। মঙ্গলবার পর্যন্ত তার কোনো খোঁজ মেলেনি। ফায়ার সার্ভিস দুই দিন অনুসন্ধান চালিয়েও লাশ উদ্ধার করতে না পারায় উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণা করেছে, যা তার পরিবারে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
এই ঘটনার পরেও ‘চন্দন’ ধরার প্রতিযোগিতা থামেনি। ভূরুঙ্গামারী ও নাগেশ্বরীর কালজানি ও দুধকুমার নদের তীরে এখনো মানুষের উপচে পড়া ভিড়।
'চন্দন' ভেবে লাখ টাকার স্বপ্ন, আসলে কী?
নদীর পাড়ে স্তূপ করে রাখা হয়েছে হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি। আকারভেদে একেকটি গুঁড়ি ২০ হাজার থেকে শুরু করে ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দামাল গ্রামের আব্দুল মোতালেব নামের এক ব্যক্তি বলেন, “চারজন মিলে একটি বড় গাছ তুলেছি। এটা রক্ত চন্দন। ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দাম চেয়েছি।”
কিন্তু আসলেই কি এগুলো চন্দন কাঠ? কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের অধ্যক্ষ মির্জা নাসির উদ্দিন বলেন, “একেবারেই না। গাছের সার কাঠে থাকা ট্যানিন নামক রাসায়নিক উপাদান পানির সঙ্গে মিশে অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে লালচে বর্ণ ধারণ করে। মানুষ না জেনেই একে চন্দন ভাবছে।”
জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাদিকুর রহমানও একই কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এগুলো সাধারণ গাছের গুঁড়ি। চন্দন কাঠের কোনো বিষয় এখানে নেই।”
কোথা থেকে এলো হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি?
ধারণা করা হচ্ছে, ভুটান ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বনাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে বন্যা দেখা দিয়েছে। সেই বন্যার পানিতেই ভেসে কালজানি নদী হয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে এসব গাছের গুঁড়ি। মূল্যবান কাঠ ভেবে একদল মানুষ উচ্চ দামে কিনলেও, অনেকে আবার এসব নষ্ট হয়ে যাওয়া কাঠ কম দামে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য কিনে নিচ্ছেন।