তিন মাসের বেতন না পেয়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে শ্রমিকদের বিক্ষোভ
প্রকাশিত: 06 May, 2026
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তিন মাসের বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে একটি রপ্তানিমুখী স্পিনিং কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। এতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রী ও পথচারীরা।
বুধবার দুপুরে উপজেলার তারাবো পৌরসভার যাত্রামুড়া সুইজগেট এলাকায় অবস্থিত নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের শ্রমিকরা প্রথমে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করেন। পরে দাবি আদায়ে তারা ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটিতে প্রায় ৭০০ শ্রমিক কাজ করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিল মাসের বেতন-ভাতা এখনও পরিশোধ করেনি কর্তৃপক্ষ। বারবার আশ্বাস দিয়েও মালিকপক্ষ বেতন না দেওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম সংকটে পড়েছেন তারা। অনেকের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে আছে। দোকানদাররা আর বাকিতে নিত্যপণ্য দিচ্ছেন না। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচও চালাতে পারছেন না শ্রমিকরা। এমন পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে তারা নারায়ণগঞ্জ শ্রমিক ফেডারেশন ইউনিয়নের দ্বারস্থ হন।
শ্রমিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিয়নের মধ্যস্থতায় মালিকপক্ষ ৬ মে বকেয়া পরিশোধের আশ্বাস দিলেও বুধবার সকালে কারখানায় এসে তারা জানতে পারেন, বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। এ ঘোষণার পর শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা কাজে যোগদান না করে কারখানার সামনে অবস্থান নেন এবং একপর্যায়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকরা আরও অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষের ঘনিষ্ঠ স্থানীয় এক ব্যক্তি আব্দুল লতিফ আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ওই ব্যক্তির বিচারও দাবি করেন তারা।
মহাসড়ক অবরোধের ফলে কয়েক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন যানবাহন আটকা পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
এ বিষয়ে নোবেল কটন স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আলী বলেন, আগামীকাল কারখানার জন্য তুলাসহ প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আসবে। কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালু হলেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।
খবর পেয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএইচএম সালাউদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মালিকপক্ষ বৃহস্পতিবার সকালেই বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অবরোধ প্রত্যাহার করে মহাসড়ক ছেড়ে যান। এরপর ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।