জাতীয়

অধিকার আদায়ের দিবসেও শ্রম বিক্রির অপেক্ষায় হাজারো শ্রমিক

প্রকাশিত: 01 May, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

অধিকার আদায়ের দিবসেও শ্রম বিক্রির অপেক্ষায় হাজারো শ্রমিক

আজ মহান মে দিবস, শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের দিন। অথচ এই বিশেষ দিনেও পেটের তাগিদে শ্রম বিক্রির আশায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে হাজারো শ্রমিককে। শুক্রবার সকালে রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা ও নতুন বাজার এলাকায় অন্য দিনের মতোই খুব সকালে কাজের সন্ধানে ভিড় জমান তারা। কারও হাতে কোদাল, কারও হাতে হাতুড়ি, আবার কারও হাতে ঝুড়ি; কাজের আশায় চাতক পাখির মতো দাঁড়িয়ে আছেন শ্রমিকরা।

সকালে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় দুই হাজারের বেশি শ্রমিক রাস্তায় জড়ো হন। তারা জানান, পেটের দায়ে প্রতিদিনই খুব সকালে কাজের অপেক্ষায় রাস্তায় আসতে হয়। আগের মতো এখন আর সহজে কাজ পাওয়া যায় না। আজ যে শ্রমিক দিবস পালিত হচ্ছে, তা জানা সত্ত্বেও তাদের কিছু করার নেই। বৃষ্টিতে ভিজেও তারা দাঁড়িয়ে আছেন এই আশায়– যদি নিজের শ্রমটা বিক্রি করতে পারেন, তবেই সন্ধ্যায় কাজ শেষে সন্তানদের জন্য কিছু বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

বাড্ডা এলাকায় কাজের অপেক্ষায় থাকা জয়নাল হোসেন নামের এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, টানা ৯ দিন বেকার থাকার পর গতকাল তিনি কাজ পেয়েছিলেন। আজও কাজ পাবেন– সেই আশায় সকালে বৃষ্টিতে ভিজে এখানে এসে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আগে বসে থাকা লাগত না। এখন শ্রমিকের সংখ্যা অনেক বেশি হয়ে যাওয়ায় প্রতিদিন কাজ পাওয়া যায় না। দু-এক দিন কাজ পেলে সেই টাকা দিয়ে সংসার চালাই।’

ভাড়ার চিন্তায় উদ্বিগ্ন জয়নাল আরও বলেন, ‘আজ মাসের ১ তারিখ, আর চার-পাঁচ দিন পরেই বাসা ভাড়া দিতে হবে। কিন্তু হাতে কোনো টাকা নেই। যদি আগামী কয়েক দিন কাজ পাই, তবেই বাড়ি ভাড়া দিতে পারব; তাও ১০ তারিখের আগে মনে হয় পারব না।’

পারুল নামে এক নারী শ্রমিকের কাছে মে দিবসে কাজে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তার অসহায়ত্বের কথা তুলে ধরেন। পারুলের পরিবারে সদস্য পাঁচজন। স্বামী অসুস্থ থাকায় কাজ করতে পারেন না, ছেলেমেয়েরাও ছোট। তাই বাধ্য হয়েই সকালে বৃষ্টিতে ভিজে কাজে এসেছেন তিনি। পারুল বলেন, ‘প্রতিদিন কাজ পাই না। সপ্তাহে দু-এক দিন কাজ পাই, তা দিয়েই কোনোভাবে টেনেটুনে সংসার চালাই। আগে প্রতিদিনই কাজ ছিল। এখন কাজের পরিমাণ খুবই কম। সরকার যদি আমাদের দিকে একটু নজর দেয়, তাহলে মনে হয় বেঁচে থাকতে পারব।’ ৫ তারিখের মধ্যে বাড়ি ভাড়া পরিশোধের বাধ্যবাধকতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সময়মতো ভাড়া দিতে না পারায় প্রতি মাসেই বাড়িওয়ালার কথা শুনতে হয়।’

উল্লেখ্য, আজ মহান মে দিবস। ১৮৮৬ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরের হে মার্কেটের শ্রমিকেরা শ্রমের উপযুক্ত মূল্য ও দৈনিক অনধিক আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ওই দিন আন্দোলনরত শ্রমিকদের ওপর পুলিশ গুলি চালায়। এতে অনেক শ্রমিক হতাহত হন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টা করার দাবি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর থেকে দিনটি মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নব প্রভাত’।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: