আন্তর্জাতিক

গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের নতুন মিশন: টার্গেট সুড়ঙ্গ

প্রকাশিত: 13 Oct, 2025

ফন্ট সাইজ:
গাজায় যুদ্ধবিরতির পর ইসরায়েলের নতুন মিশন: টার্গেট সুড়ঙ্গ

গাজায় যুদ্ধবিরতি চললেও শেষ হয়নি ইসরায়েলি বাহিনীর কাজ। এবার তাদের মূল লক্ষ্য হামাসের সুবিশাল ও রহস্যময় সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা, যা ইসরায়েলের দীর্ঘদিনের মাথাব্যথার কারণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযান এখনও থামেনি। তার মতে, গাজাকে পুরোপুরি হামাসমুক্ত করার জন্য মূল কাজটি এখনও বাকি।

মূল লক্ষ্য হামাসের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'এক্স'-এ দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, গাজায় হামাসের তৈরি ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গের জাল ধ্বংস করাই হবে তাদের পরবর্তী পদক্ষেপ। তিনি এই অভিযানকে 'গাজাকে নিরস্ত্রীকরণ এবং হামাসের সামরিক শক্তি নির্মূল করার প্রাথমিক ধাপ' হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই অভিযান শুরুর জন্য দুটি শর্তের কথা বলেছেন তিনি। প্রথমত, গাজায় আটক থাকা বাকি সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় সেখানে একটি নতুন বেসামরিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এই দুটি শর্ত পূরণ হলেই ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) সুড়ঙ্গ ধ্বংসের কাজ শুরু করবে।

কেন এই সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক এত গুরুত্বপূর্ণ?
২০০৬ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে গাজার ক্ষমতা নেওয়ার পর থেকেই হামাস পুরো উপত্যকাজুড়ে এই সুবিশাল সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক তৈরি করে। এই নেটওয়ার্ক কেবল অস্ত্র, গোলাবারুদ বা রসদ মজুত রাখার কাজেই ব্যবহৃত হতো না, এটি ছিল হামাস যোদ্ধাদের আশ্রয় এবং গোপন যোগাযোগের এক দুর্ভেদ্য দুর্গ।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েল থেকে অপহরণ করে আনা ২৫১ জন জিম্মির অনেককেই এই সুড়ঙ্গগুলোতে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এর গঠন এতটাই জটিল ও গোপনীয় যে, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্ব ছাড়া এর প্রবেশপথ বা ভেতরের গঠন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রায় কেউই জানে না।

এই গোপন সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা হামাসের সামরিক শক্তির অন্যতম ভিত্তি। তাই ইসরায়েল মনে করে, এই নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে না পারলে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: