গাজা যুদ্ধের ২ বছর:হামাস কি দুর্বল হয়েছে,নাকি আরও শক্তিশালী?
প্রকাশিত: 07 Oct, 2025
আজ থেকে ঠিক দু'বছর আগে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর, ইসরায়েলে অতর্কিত হামলা চালিয়েছিল হামাস। সেই ঘটনার জবাবে গাজায় যে বিধ্বংসী অভিযান শুরু করেছিল ইসরায়েল, তা আজও থামেনি। এই দুই বছরে গাজা উপত্যকা যেন এক মৃত্যুপুরী ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার আক্রমণে উত্তর ও দক্ষিণ গাজা কার্যত irrepairable। ইসরায়েলের দাবি, হামাসের শীর্ষ নেতৃত্বের অধিকাংশই নিহত এবং সংগঠনটি প্রায় ভেঙে পড়েছে। কিন্তু আসলেই কি হামাস পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?
ব্যাপক ক্ষতি, কিন্তু হামাস কি শেষ?
সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই বছরের যুদ্ধে হামাসের যে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের সাংগঠনিক কাঠামো এবং নেতৃত্বের ওপর বড় ধরনের আঘাত হেনেছে ইসরায়েল। তবে সংগঠনটি এখনো পুরোপুরি ক্ষমতা হারায়নি।
যুক্তরাজ্যের কিংস কলেজের ওয়ার স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মারিনা মিরনের মতে, "হামাস প্রচণ্ড ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে গেলেও তাদের নতুন করে সংগঠিত হওয়ার ক্ষমতা এখনো রয়েছে।" গাজায় তাদের প্রভাবও অস্বীকার করার উপায় নেই।
যোদ্ধা হতাহতের পরস্পরবিরোধী পরিসংখ্যান
হামাসের শক্তি কতটা টিকে আছে, তা নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্ক তাদের যোদ্ধা সংখ্যা নিয়ে। দু'বছর আগে যখন হামলা হয়, তখন হামাসের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার যোদ্ধা ছিল। ইসরায়েলের দাবি, এর মধ্যে ১৭ থেকে ২৩ হাজার যোদ্ধাকেই তারা হত্যা করেছে।
কিন্তু এই দাবির সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ হাজির করতে পারেনি ইসরায়েল। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই সংখ্যাটি অতিরঞ্জিত। তাদের মতে, নিহত হামাস যোদ্ধার প্রকৃত সংখ্যা সাড়ে আট হাজারের কাছাকাছি। এমনকি ইসরায়েলের একটি সংবাদমাধ্যমও সেনা বাহিনীর নথি উদ্ধৃত করে জানায়, ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত নিহত হামাস যোদ্ধার সংখ্যা ৮,৯০০।
এই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো বেসামরিক মানুষের মৃত্যু। এখন পর্যন্ত গাজায় প্রায় ৬৬ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যার ৮০ শতাংশই সাধারণ নাগরিক, যাদের মধ্যে বহু নারী ও শিশু রয়েছে।
নতুন যোদ্ধা নিয়োগ ও ভবিষ্যৎ
সবচেয়ে চমকপ্রদ তথ্যটি দিয়েছে সংবাদসংস্থা রয়টার্স। তাদের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দু’বছরে হামাস নতুন করে ১০ থেকে ১৫ হাজার যোদ্ধা নিয়োগ করেছে। এটি যদি সত্যি হয়, তবে হামাসের সামরিক শক্তি নিয়ে ইসরায়েলের দাবি প্রশ্নের মুখে পড়ে যায়।
সুতরাং, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও হামাসকে এখনই দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না। সংগঠনটি হয়তো নতুন নেতৃত্বে এবং নতুন কৌশলে আবার শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।