হাওরে তলিয়েছে ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান, উৎপাদনে ঘাটতির শঙ্কা
প্রকাশিত: 05 May, 2026
পাঁচ বছর পরপর বড় ধরনের অকাল বৃষ্টির কবলে পড়ে হাওরাঞ্চল, যাকে স্থানীয়রা 'কাচইরা' বলেন। সম্প্রতি আবারও কাচইরায় কবলে পড়েছে হাওর এলাকা। তলিয়েছে ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান। এতে দেশে চাল উৎপাদনে ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। চালের দাম স্থিতিশীল রাখতে এখন থেকেই পরিকল্পনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
ধান উৎপাদনের সবচেয়ে বড় এই মৌসুমে হাওরের অবদান প্রায় ২০ শতাংশ। তাই এই ডোবা ধান শুধু কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ নয়, ঝুঁকিতে ফেলছে খাদ্য নিরাপত্তা। হাওরে এবার ৪ লাখ ৫৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছিল। এর আগে ২০১৭ সালের মার্চ-এপ্রিলের অকাল বন্যায় নষ্ট হয় প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান। ওই বছর রেকর্ড পরিমাণ বেড়েছিল চালের দর। পাঁচ বছর পর আঘাত হানে চৈতালি ঢল, যাতে ক্ষতির মুখে পড়ে প্রায় ৭ হাজার হেক্টরের বেশি ধান এবং অস্থিতিশীল হয় চালের বাজার।
চাষিরা বলছেন, তলিয়ে যাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাঁচা ধান কাটছেন তারা। সংসার কীভাবে চলবে তা নিয়ে চিন্তিত তারা। তবে তলিয়ে যাওয়া এই ধান থেকে চাল উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে জানিয়েছেন ধান বিজ্ঞানীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এবারের অকাল বৃষ্টি ও ঢলে ডুবে গেছে ৪৭ হাজার হেক্টর জমির ধান। তবে হাওর নিয়ে কাজ করা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা বলছে, তলিয়ে আছে কমপক্ষে ৮০ হাজার হেক্টর জমির ধান।
পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, এবার যে বাঁধগুলো হয়েছে অপরিকল্পিত, এই বাঁধের কারণে হাওর থেকে পানি বের হতে পারছিল না। জলাবদ্ধতায় ফসল নষ্ট হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক সময় কৃষকরা চেষ্টা করেছেন বাঁধগুলো কেটে দিতে, কিন্তু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসন থেকে বাঁধগুলো কাটতে বাধা দেওয়া হয়েছে।
ডুবে যাওয়া এই ধান কেটে চাল উৎপাদন করা কঠিন হবে বলে মনে করছেন ধান বিজ্ঞানীরা। ধারণা করা হচ্ছে, হাওরাঞ্চল থেকে চালের উৎপাদন ঘাটতি হতে পারে তিন লাখ টন। ধান বিজ্ঞানী জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস বলেন, হাওর এলাকায় একটি ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি করতে হবে। কোথায় কম পানি হয়, কোথায় বেশি পানি হয়, কোথায় বেশি ঝুঁকি আছে—এগুলো নিরূপণ করতে হবে। আমাদের প্রবণতা হলো যেখানেই ধান চাষ করা যায়, সেখানেই ধান চাষ করা। এই প্রবণতা ত্যাগ করতে হবে।
হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা আছে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, যে সমস্ত বেড়িবাঁধ দিলে বাঁধের ভেতরে জমিগুলোকে রক্ষা করা যাবে, ওই ধরনের বেড়িবাঁধের ব্যাপারে কাজ করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।