আন্তর্জাতিক

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবি কেন, কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

প্রকাশিত: 05 May, 2026

ফন্ট সাইজ:
বাপ্পি
বাপ্পি

জেলা প্রতিনিধি

পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ভরাডুবি কেন, কী বলছেন বিশ্লেষকেরা

গত নির্বাচনে ব্যর্থতার পর এবার পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের ঘাঁটিতে বিজেপির হানা। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর পেছনে ছিল দলটির দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। এছাড়াও মমতা ব্যানার্জির জনপ্রিয়তায় ভাটা তৈরিতে ভূমিকা রাখেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

৩৪ বছরের বাম শাসনের লাল দুর্গ ভেঙে ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে ঝান্ডা উড়িয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। ১৫ বছর একচেটিয়া রাজত্বের পর বিজেপির কৌশলে হোঁচট খেল তৃণমূল।

বাংলায় উত্থানের পেছনে বিজেপির দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা দেখছেন বিশ্লেষকেরা। মাঠ পর্যায়ে বিজেপির সম্পৃক্ততাকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তারা।

পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিক ও নির্বাচন বিশ্লেষক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় বলেন, ভোটটা ভাগ হয়েছে, যারা সুবিধা বিজেপি পাচ্ছে। এর পেছনে দীর্ঘ দিনের পরিকল্পনা আছে, যা কাজ করছে।

গত বিধানসভা নির্বাচনে পরাস্ত হয়ে রাজনীতিতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনে বিজেপি। উত্তরবঙ্গ ও জঙ্গলমহলে বাম ও কংগ্রেসের ভোটব্যাংকে ভাগ বসায় দলটি। মুসলিম তোষণ আর দলবাজির অভিযোগ তুলে বিপাকে ফেলে তৃণমূলকে।

আর জি করের ধর্ষণকাণ্ডের পর নারীদের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলে বেকায়দায় ফেলে তৃণমূলকে। অভয়ার মাকে প্রার্থী করে বড় চমক দেয় বিজেপি।

বিজেপির হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শেরও প্রসার ঘটে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিয়মিত সফর আকৃষ্ট করে ভোটারদের।

আরও পড়ুন:  পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের বিপর্যয়, ভবানীপুরে মমতা পিছিয়ে

অভিযোগ আছে, ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক মুসলিমকে বাদ দেয়ায় মালদা, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর দিনাজপুরে বিজেপির উত্থান হয়। পশ্চিমবঙ্গের ১৭ শতাংশ মতুয়া সম্প্রদায়ের ভোটারকেও টার্গেট করে দলটি।

সাংবাদিক ও নির্বাচন বিশ্লেষক অনিকেত চট্টোপাধ্যায় বলেন, যদি ৩৫ লাখ মানুষের ভোট বাদ দেওয়া হয়, এবং কোনো রাজনৈতিক দল যখন বলতে পারে না যে, আমাদের সহনাগরিকদের বাদ দিয়ে আমরা ভোট করতে দেব না– বৈধ ভোটাররা বাইরে রয়ে গেলেন। সেই ভোটাররা থাকলে কী হতো আমরা জানি না।

ভোটার তালিকা সংশোধনের কারণে নির্বাচনের আগে অনেক প্রবাসী পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসেন। এবার পোস্টাল ভোটেও বড় সমর্থন পায় বিজেপি।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: