ক্রিকেট

নারী বিশ্বকাপে বিতর্কিত আম্পায়ারিং, ম্যাচ শেষে কী বললেন ফাহিমা?

প্রকাশিত: 08 Oct, 2025

ফন্ট সাইজ:
নারী বিশ্বকাপে বিতর্কিত আম্পায়ারিং, ম্যাচ শেষে কী বললেন ফাহিমা?

বাংলাদেশ নারী দলের হাত থেকে যেন জয় ছিনিয়ে নিল ভাগ্য! ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ লড়াই করেও ৪ উইকেটে হারতে হয়েছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে। এই হারের মূল কারণ হিসেবে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সেই বিতর্কিত আম্পায়ারিং সিদ্ধান্তগুলোই উঠে আসছে।

যখন বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে ইংলিশ ব্যাটাররা একে একে কুপোকাত হচ্ছিল, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে আসেন অভিজ্ঞ ব্যাটার হিদার নাইট। তিনি ১১১ বলে ৭৯ রানের এক অসাধারণ ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। তবে এই ইনিংসে একাধিকবার বিতর্কিতভাবে ‘জীবন’ পেয়েছেন তিনি, যা নিয়ে ম্যাচ শেষে নিজেই মুখ খুলেছেন ইংলিশ এই তারকা।

বারবার জীবন পাওয়ায় হিদার নাইট কী বললেন?
ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বড় আলোচনা ছিল হিদার নাইটকে দেওয়া দুটি আউটের সিদ্ধান্ত বদল করে দেওয়া নিয়ে। একবার এলবিডব্লিউ ও একবার ক্যাচ আউট দেওয়ার পরও থার্ড আম্পায়ার গায়ত্রী ভেনুগোপাল ভিডিও রিপ্লে অস্পষ্টতার দোহাই দিয়ে অন-ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে দেন।

স্বাভাবিকভাবেই, এমন বিতর্কিত সুবিধা পেয়ে নাইট নিজেকে ভাগ্যবান মনে করেছেন। তিনি বলেন, “আজকে আমি হয়তো ৩ বার আউট হতে পারতাম। মনে হয় কিছুটা ভাগ্যবান ছিলাম। তবে আমার মনে হয় ভাগ্যটা পক্ষে থাকাটা আমি ডিজার্ভও করি।”

কেন বিতর্ক জন্মাল ফাহিমার আউটে?
বিতর্ক আরও বাড়ে ১৫তম ওভারে। ফাহিমা খাতুনের বলে কভার অঞ্চলে ক্যাচ তুলে দেন নাইট। শূন্যে থাকা বলটি সাবলীলভাবে তালুবন্দী করেন স্বর্ণা আক্তার। ক্যাচ ধরে ফেলায় আউট নিশ্চিত ধরে নিয়ে নাইট নিজেই হাঁটা শুরু করেন। কিন্তু সেই সময় অন-ফিল্ড আম্পায়ার তাকে থামিয়ে থার্ড আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্তের ভার পাঠান। সেখানেই আবারও ‘নটআউট’ জানানো হয় নাইটকে।

এ বিষয়ে নাইট বলেন, “প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এটা আউট। ক্যাচটা ঠিকঠাক ধরা হয়েছে মনে করে আমি হাঁটা শুরু করি। কিন্তু টিভি আম্পায়ার ভিন্ন সিদ্ধান্ত জানান।” অর্থাৎ, স্বয়ং ব্যাটারও আউট মনে করেও আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে টিকে গেলেন।

‘খেলার সিনারিওটাই পাল্টে যেত’, আফসোস ফাহিমার
নাইটের এমন একাধিক জীবন পাওয়া নিয়ে হতাশা স্পষ্ট বাংলাদেশের স্পিনার ফাহিমা খাতুনের কণ্ঠে। তিনি বলেন, “এটা খুবই দুঃখজনক। আমরা নিশ্চিত ছিলাম যে আউট ছিল, সেভাবেই আপিল করেছি। আউট হয়ে যাওয়ার পরেও যখন দেওয়া হয়নি তখন একটু আপসেট হয়ে গিয়েছিলাম। আমি মনে করি নাইটের উইকেটটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তখন উইকেট গেলে খেলার সিনারিওটা হয়তো ভিন্ন হতো।”

এদিন ফাহিমার বোলিং ছিল দুর্দান্ত। ১০ ওভারে মাত্র ১৬ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। নিজেদের বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে তিনি জানান, “বোলারদের প্ল্যানই ছিল উইকেট টু উইকেট বল করা। আমাদের বোলিং আক্রমণ অনুযায়ী আমার মনে হয় ভালো স্কোরই হয়েছিল। একটাই মেসেজ ছিল, উইকেট টু উইকেট বল করো, উইকেটের বাহিরে কোরো না।”

পেসার মারুফা আক্তারকে প্রশংসায় ভরিয়ে দেন নাইট। মারুফার চোটের কারণে ৫ ওভারের বেশি বল করতে না পারাটাও বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি ছিল। তাঁকে নিয়ে নাইট বলেন, “সে (মারুফা) অনেক ভালো একজন বোলার। ভালো লেইট সুইং পায়, যে ব্যাপারটা খুব দুর্লভ। তার বলের লেইট সুইংয়ের জন্য অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে আমাদেরকে। চেষ্টা করেছি ভালোভাবে সামলে নিতে।”

এই পোস্টটি শেয়ার করুন: