শাপলা প্রতীক কিছুতেই ছাড়বে না এনসিপি, ইসিতে গেল নতুন চিঠি
প্রকাশিত: 07 Oct, 2025
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) তাদের কাঙ্ক্ষিত ‘শাপলা’ প্রতীক পাওয়ার দাবিতে আবারও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দ্বারস্থ হয়েছে। দলটি মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) তাদের দাবির সপক্ষে ৭টি নতুন নমুনাসহ ইসি সচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে।
এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের সই করা চিঠিতে পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, শাপলা প্রতীকের সঙ্গে দেশের মানুষের গভীর আবেগ ও সংযোগ রয়েছে। তাই অন্য কোনো প্রতীক বেছে নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। দলটি তাদের এই অবস্থানে এখনো অনড়।
কেন এই প্রতীক নিয়ে এত বিতর্ক?
ঘটনার শুরু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। নির্বাচন কমিশন যখন নতুন প্রতীক তালিকাভুক্ত করার কাজ শুরু করে, তখন এনসিপিকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে চূড়ান্ত তালিকায় ‘শাপলা’ প্রতীক থাকছে। এই আশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই দলটি নিবন্ধনের জন্য আবেদন করে এবং শাপলাকে তাদের এক নম্বর পছন্দের প্রতীক হিসেবে চেয়েছিল।
কিন্তু এনসিপির অভিযোগ, তাদের বারবার আবেদনের পরেও ইসি কোনো সিদ্ধান্ত না জানিয়েই অন্য প্রতীক বেছে নিতে বলছে, যা সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত ও অন্যায্য।
আইনি বাধা নেই, বলছেন অ্যাটর্নি জেনারেলও
এনসিপি তাদের চিঠিতে জানিয়েছে, দেশের ১০১ জন সিনিয়র আইনজীবী শাপলা প্রতীক বরাদ্দে কোনো আইনি বাধা নেই বলে মতামত দিয়েছেন। এমনকি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানও সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, "শাপলা প্রতীক এনসিপিকে দেওয়া যেতেই পারে, এতে বড় কোনো আইনি জটিলতা আমি দেখি না।"
শুধু তাই নয়, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাও এনসিপিকে শাপলা প্রতীক দেওয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন।
ইসির বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ
এনসিপি মনে করে, শাপলা প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত আইন দ্বারা নয়, বরং দলটির প্রতি এক ধরনের ‘বিরূপ মনোভাব’ থেকে নেওয়া হয়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নিবন্ধন প্রক্রিয়া দেরি করাচ্ছে এবং প্রতীক বরাদ্দ না দিয়ে তাদের নির্বাচনি কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করছে।
দলটি মনে করে, ইসির এমন আচরণ একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলবে এবং লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির সদিচ্ছাকে বাধাগ্রস্ত করবে। এখন দেখার বিষয়, এনসিপির এই চিঠির পর নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়।