সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর গ্রেফতার, দেড় বছর আত্মগোপনে ছিলেন
প্রকাশিত: 07 Apr, 2026
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত পুলিশের দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে মিজ চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী নিজে টর্চারের শিকার
মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে মিন্টো রোডের কার্যালয়ে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ঢাকা ও রংপুরে জুলাইয়ের একাধিক হত্যা মামলায় মিজ চৌধুরীর নাম রয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঢাকার লালবাগ থানায় হওয়া একটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে কোর্টে চালান করা হয়।
আরও পড়ুন: দেড় দিনের তেল দুই ঘণ্টাতেই শেষ: জ্বালানিমন্ত্রী
২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ২৭ দিনের মাথায় স্পিকার পদ থেকে শিরীন শারমিন চৌধুরী সরে দাঁড়ান বলে জানিয়েছিলেন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তারা। এরপর গত দেড় বছরে তাকে আর প্রকাশ্যে আসতে দেখা যায়নি। এই সময়ের মধ্যে তার অবস্থান নিয়ে নানান গুঞ্জন শোনা গেছে।
গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সপরিবারে ঢাকা সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের ১৮ই অগাস্ট প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর জানায়, মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে ও আইন বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থেকে জীবন রক্ষা করতেই তাদেরকে সেনানিবাসে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। গত বছরের ২২শে মে সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া ব্যক্তিদের নামের তালিকায় তার নাম ছিল।
সাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের জবানবন্দি অনুযায়ী, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতনের দিন সকাল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত তৎকালীন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুসহ প্রায় ১২ জন জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের একটি কক্ষে লুকিয়ে ছিলেন। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর রাত আড়াইটার দিকে সেনাবাহিনী সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে সেনানিবাসে নিয়ে যান।
প্রায় দেড় বছর পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার নিজ বাসা থেকে মিজ চৌধুরী গ্রেফতার হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে কর্মকর্তারা বলছেন, সেনানিবাস থেকে বের হওয়ার পর দেশের ভেতরেই বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তিনি বলছেন যে, এতদিন দেশেই ছিলেন। যে বাসা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে, সেটা তার স্বামীর নামে বলে জানতে পেরেছি।
গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যা মামলাসহ অন্তত অর্ধ ডজন মামলায় আসামি হিসেবে নাম রয়েছে শিরীন শারমিন চৌধুরীর। এর মধ্যে একটি রংপুরের শ্রমিক মুসলিম উদ্দিন হত্যা মামলা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় তিনি নিহত হন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৭শে অগাস্ট নিহতের স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বাদী হয়ে আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। সেখানে শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসেবে জাতীয় সংসদে যান শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর মহিলা ও শিশু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান তিনি। ২০১৩ সালে ৩০শে এপ্রিল বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন চৌধুরী। ২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগ পর্যন্ত মিজ চৌধুরী টানা তিন মেয়াদে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করেন।
টুডে/বা