ভালোবাসার টানে ঘরছাড়া দম্পতির ২৫ বছর
প্রকাশিত: 14 Feb, 2026
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার পালকিছড়া চা বাগানে বাস করেন বাসমতি রানী রবিদাস ও তার স্বামী রামনারায়ণ রবিদাস। রামনারায়ণ জন্ম থেকেই অন্ধ। ২৫ বছর আগে ভালোবাসার কারণে পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়ে তারা একসঙ্গে সংসার শুরু করেন।
বাসমতি বলেন, ‘তার সঙ্গে কথা বললে মন ভরে যেত। কিন্তু আমার পরিবার কেউ তাকে মেনে নেয়নি। সবাই আমাকে পাগলি বলতো। একদিন ঘর থেকেই বের করে দিলো।’ রামনারায়ণ বলেন, ‘বাবা বললেন—তোমার জন্মের ভাগী আমি, কিন্তু কর্মের ভাগী না। তারপর আমাকেও বাড়ি থেকে বের করে দিলেন।’
প্রথম কয়েক মাস তারা বাজারের গাছতলায় কাটান। পরে এক দয়ালু মানুষ বারান্দায় আশ্রয় দেন। বাসমতির দিন শুরু হতো স্বামীকে দিয়ে—নাস্তা তৈরি, স্নান করানো, পোশাক পরানো—সব। তারপর তার হাত ধরে ভিক্ষায় বের হওয়া।
রামনারায়ণের প্রথম স্ত্রী মারা যান সন্তান প্রসবের সময়, প্রায় ৩০ বছর আগে। তারপর তিনি হয়ে পড়েন ছন্নছাড়া। বাসমতি বলেন, ‘আমার মতো পাগলির কথা কেউ না শুনলেও, একজন তো শুনে।’ রামনারায়ণ বলেন, ‘তার কাঁধে হাত রেখেই চলি। তার চোখই আমার ভরসা।’
বিয়ের এক বছরের মাথায় তাদের প্রথম সন্তান জন্ম নেয়, পরে আরেক পুত্র। অভাবের সময় প্রতিবেশীরা খাবার ও দুধ দিয়ে সাহায্য করেন। অনেক কষ্টে এক লাখ টাকা ঋণ নিয়ে তারা একটি অটোরিকশা কেনেন।
গত ৩১ ডিসেম্বর ভোরে তারা দেখেন, তালা ভাঙা, অটোরিকশা নেই। রামনারায়ণ বলেন, ‘ভাবছিলাম আর ভিক্ষা করতে হবে না… কিন্তু ভগবান সে সুখও দিলো না।’ বাসমতি বলেন, ‘এই অটোরিকশাটাই আছিল ভরসা। চোরে মরা মানুষরে মারিয়া গেল।’
প্রতিবেশী সুমন যাদব বলেন, ‘এতো অভাব, অপমান সত্ত্বেও শুধু ভালোবাসার জন্য সংসারটা ২৫ বছর টিকে আছে। বাসমতিকে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।’ আজও ভোর হলে বাসমতি স্বামীর হাত ধরেন ও পথ দেখান।